July 23, 2026, 3:21 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ: ২২টি ডাস্টবিন স্থাপন এক মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক বৈপরীত্য/গাজী নজরুলের উত্থান, বিতর্ক ও শেষ পরিণতি ভালো ফলন, সন্তোষজনক দামে চাঙা পশ্চিমাঞ্চলের পাটের বাজার কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় ঘুমিয়ে থাকা শিশুকে বলাৎকার/ হুজুর বলল ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ ইবি উপাচার্যের সঙ্গে IEEE স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সৌজন্য সাক্ষাৎ যশোর-বেনাপোল ডাবল রেললাইন প্রকল্প/আমদানি-রপ্তানি ও বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগে নতুন গতি প্রত্যাশা নারীর সঙ্গে জামাত এমপির ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: কী বলছে ফ্যাক্ট-চেক, কী বলছে জামায়াত শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়, সক্ষমতা তৈরীর উপায় : ইবি উপাচার্য প্রশাসনের রাজনীতিকরণ: রাষ্ট্রের নীরব ক্ষয়, গণতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংকট স্পেনের বিশ্বজয়, আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বফুটবলের নতুন যুগের সূচনা

কুষ্টিয়ার ৩০ মণের ‘কালো পাহাড়’-এর এখনও ওঠেনি দাম

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিলকাঠিয়া গ্রামের কৃষক লিটন শেখ (টুটুল) প্রায় এক বছর ধরে নিজের হাতে লালনপালন করছেন একটি বিশালাকায় ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। নাম রেখেছেন—‘কালো পাহাড়’। ওজন প্রায় ৩০ মণ, উচ্চতা ছয় ফুটের কাছাকাছি, আর দৈর্ঘ্য সাড়ে আট ফুট। বিশাল আকৃতির কারণে গরুটিকে দেখতে স্থানীয়রা প্রতিদিনই ভিড় জমায়।
তবে হতাশার বিষয়, কোরবানির ঈদ আর মাত্র দু’দিন দূরে, অথচ এখনও পর্যন্ত কেউ গরুটির দামই বলেনি। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে টুটুল শেখ, তার স্ত্রী মিরানা খাতুন ও ছেলে সুরুজ আলী শেখের।
টুটুল শেখ জানান, পরিবার মিলে ‘কালো পাহাড়’কে সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। সকালে মাঠের কাঁচা ঘাস, গম, ছোলা, খড় আর দানাদার খাবার দিয়ে চলে গরুটির খাওয়ানো। দিনে প্রায় এক হাজার টাকার মতো খরচ হয় খাবারেই। গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা হয়, দিনে চার-পাঁচবার গোসল করানো হয়। গরুটির দেখভালের জন্য পরিবারের কেউ না কেউ সারাক্ষণ গোয়ালঘরে থাকেন।
গত কোরবানির ঈদে গরুটির দাম বলা হয়েছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবছর আশাবাদ ছিল দ্বিগুণ—১২ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠবে দাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ব্যাপারী আসেওনি।
গত ৩ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে উঠানে এনে বরই গাছের সঙ্গে বেঁধে দিচ্ছেন। ঘনকালো রঙের বিশাল দেহ নিয়ে গরুটি লাফাচ্ছে, দৌড়াচ্ছে—একটা প্রাণোচ্ছ্বলতা যেন চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন আশপাশের মানুষ।
স্থানীয় প্রবীণ কৃষক আজিজ মোল্লা বলেন, “এতো বড় গরু আগে কখনও এই এলাকায় দেখিনি। প্রতিদিন লোকজন আসে দেখতে। কিন্তু কেউ কিনতে আসছে না, এটাই দুঃখ।”
টুটুল শেখ বলেন, “আমরা সাধারণ কৃষক মানুষ, ব্যবসার হিসাব-নিকাশ বুঝি না। শুধু আশা করেছিলাম, গরুটির ভালো দাম পাবো। কিন্তু এখন যদি কেউ ৭ লাখ টাকাও দেয়, খরচ উঠে গেলে বিক্রি করে দেব।”
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি টুটুলের স্ত্রী মিরানা খাতুন। বললেন, “সন্তানের মতো করে বড় করেছি। সারাক্ষণ তাকে ঘিরেই আমাদের সংসার। বিক্রির কথা উঠলেই চোখে পানি আসে।”
ছেলে সুরুজ আলী শেখ বলেন, “এতো বড় গরু ঢাকা নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ—ডাকাতি, দুর্ঘটনার ভয় আছে। তাই বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এখন লাভের কথা ভাবি না, কেউ যদি শুধু খরচটাই দেয়, তাও ছেড়ে দেব। ভবিষ্যতে আর এমন বড় গরু পালন করব না।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net